
ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড রেনেসাঁ ড্যাম বা নীল নদ বাঁধ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পানিবণ্টন বিবাদ সমাধানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে মিসর ও সুদান।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান পৃথক বার্তায় এই উদ্যোগে তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা করেছিলেন, মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে সমঝোতা ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ কূটনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে।
মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নীল নদকে মিসরের জনগণের “জীবনরেখা” হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্পের আগ্রহের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং মিসরের পানি নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সিসি বলেন, “মিসর আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নীল নদ অববাহিকার দেশগুলোর সঙ্গে এমনভাবে সহযোগিতা করতে চায়, যাতে কারও স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয় এবং সবার মঙ্গল নিশ্চিত হয়। আগামী দিনগুলোতে আমি ট্রাম্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রস্তুত।”
সুদানের নেতা আল-বুরহানও এক্স-এ প্রকাশিত পোস্টে ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সুদানের পক্ষ থেকে এই মধ্যস্থতাকে আমরা সমর্থন করি। এটি একটি টেকসই ও সন্তোষজনক সমাধান নিশ্চিত করবে, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অধিকার রক্ষা করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।”
প্রায় ১৪ বছর ধরে নির্মাণ চলার পর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়া নীল নদের ওপর এই বিশাল বাঁধ প্রকল্প উদ্বোধন করে। এরপর থেকেই মিসর ও সুদান ইথিওপিয়ার সঙ্গে বাঁধের পানি পূরণ ও পরিচালনার বিষয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
নীল নদ মোট ৬,৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান এবং মিসরসহ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
দীর্ঘদিন ধরে মিসর ও সুদান দাবি জানিয়ে আসছে যে ইথিওপিয়া এই বাঁধ প্রকল্পের বিষয়ে একটি আইনিভাবে বাধ্যবাধক ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছাক। ট্রাম্পের মধ্যস্থতার এই নতুন প্রস্তাব নীল নদ অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকট সমাধানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি