
ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তাহলে সময়ই বলে দেবে কে ঠিক আর কে ভুল।”
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তবে তা ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অঞ্চলেই এর প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে তিনি ইরানি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার পর তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ট্রাম্প। ওই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, এসব আন্দোলন কার্যত একটি ‘অভ্যুত্থানচেষ্টার’ রূপ নিয়েছিল। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ, সরকারি স্থাপনা, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা চালিয়েছে এবং পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত এসব কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে।
খামেনির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন, “তিনি তো এমন কথাই বলবেন। দেখা যাক কী হয়।” পাশাপাশি তিনি আবারও আলোচনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
ইরান সরকারের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির হিসাব বলছে, নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২-এর বেশি, এবং তাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি জানান, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিও জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নীরবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ট্রাম্পও আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তেহরান পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো আলোচনার টেবিলে আসবে না।