
ইরানের সাথে আলোচনা ভাল হয়েছে, কেটে যাচ্ছে যুদ্ধের আশঙ্কাদীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপে আশাবাদের সুর মিলেছে। ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে ‘খুব ভালো’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সামনে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এক দিনের এই বৈঠকে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। আলোচনার পরিবেশকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছে তেহরানও, একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যেখানে উভয় পক্ষ সংঘাত এড়াতে ‘ইতিবাচক পরিবেশ’ বজায় রাখে।
মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরীসহ একটি মার্কিন নৌবহর মোতায়েন থাকা অবস্থায় ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এই আলোচনা হয়। তবে প্রতিনিধিদলগুলো প্রকাশ্যে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসেনি।
আলোচনা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে জাহাজ পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে এই পদক্ষেপ আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার পর এটিই ছিল দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে প্রথম কোনো আলোচনা।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আমরা আবার বৈঠক করব।’
তবে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘যদি তারা কোনও চুক্তি না করে, তাহলে পরিণতি খুবই ভয়াবহ হবে।’ এর আগে ওয়াশিংটনের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানও আরও হুমকির বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছিল।
মাস্কাটে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, আলোচনা ‘একান্তভাবে’ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। পশ্চিমা দেশগুলো এই কর্মসূচিকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে সন্দেহ করলেও তেহরান বরাবরের মতোই একে শান্তিপূর্ণ দাবি করেছে এবং এটি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার, আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে তেহরানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি আচরণকেও অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী ছিল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ‘ভালো সূচনা’, যেখানে পারস্পরিক যুক্তি ও মতামত বিনিময় হয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি ‘হুমকি ও চাপ’ থেকে সরে আসে, তাহলে ভবিষ্যতেও আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।