
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের ওপর রপ্তানি শুল্ক শূন্য করার সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্য এখন শুল্কমুক্ত হবে।
তবে এই চুক্তিকে ভারতের বিরোধী দলগুলো ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভারতের টেক্সটাইল পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৮ শতাংশ শুল্ক রেখেছে, যা আগে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ফলে তিরুপুর, সুরাট ও পানিপথের মতো বড় টেক্সটাইল হাবগুলো মার্কিন বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে। দলটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে ভারত তার তুলা ও সুতা বাজারে প্রতিযোগিতা হারাতে পারে। এটি দেশের বস্ত্র শিল্পকে দুর্বল করবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।”
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। চুক্তিতে শুধু তুলা নয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ই-কমার্সে শুল্ক আরোপ না করা, যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত মেধাস্বত্ব সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে চলা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সংস্কারের সমর্থনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখনও দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, এই চুক্তি দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে সুবিধাজনক প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক দিন পরে, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।