
পবিত্র রমজান মাসের দ্বারপ্রান্তে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম। এ সময়েই আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ইমাম শায়খ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ফিলিস্তিনি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি সদস্যরা মসজিদের আঙিনা থেকেই তাকে আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি এমন এক প্রেক্ষাপটে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। খবর প্রকাশ করেছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, শায়খ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকেই আটক করা হয়। তবে তাকে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি পদক্ষেপ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কঠোর হয়েছে। ইমাম ও খতিবদের ওপর বিধিনিষেধ, মুসল্লিদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বসতি স্থাপনকারীদের বাড়তি তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ইমামকে আটকের ঘটনা ঘটল।
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শায়খ আল-আব্বাসির ওপর এক সপ্তাহের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্রয়োজনে এই নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করা হতে পারে বলেও জানানো হয়।
আটকের আগে শায়খ আল-আব্বাসি বলেন, তাকে নিষেধাজ্ঞার কারণ জানানো হয়নি। গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর দীর্ঘ এক বছরের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফেরার পর এমন সিদ্ধান্ত তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে বলেও জানান তিনি।
রমজান উপলক্ষে যখন লাখো ফিলিস্তিনি মুসল্লি আল-আকসা মসজিদে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এসব বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হলো।
মঙ্গলবার হামাস এক বিবৃতিতে শায়খ আল-আব্বাসির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানায়। সংগঠনটি জানায়, তাকে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। হামাসের মতে, এটি মসজিদের বিষয়ে স্পষ্ট হস্তক্ষেপ এবং এর ইমামদের ওপর আঘাত।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা, রমজানের প্রস্তুতিতে প্রতিবন্ধকতা এবং বসতি স্থাপনকারীদের অভিযান চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো মসজিদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ, একে ‘ইহুদিকরণ’ করা, ইবাদতের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং সময় ও স্থানের ভিত্তিতে বিভাজন আরোপ করা।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও নিষেধাজ্ঞার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।