.jpg)
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করতে হলে আগে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে—এমন কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা জানান।
একই সময়ে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী বৈঠক। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় গাজায় টানা দুই বছরের যুদ্ধ বন্ধে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এ বোর্ড গঠন করা হয়। প্রথম বৈঠকে প্রায় দুই ডজন বিশ্বনেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অংশ নেন।
ওই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজার জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা ঘোষণা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজার পুনর্গঠনের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্প সেখানে রিসোর্ট উন্নয়নের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এক সামরিক অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আমাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হয়েছি যে গাজার নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া গাজার পুনর্গঠন হবে না।’
ওয়াশিংটনের বৈঠকে গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
বোর্ডের সামনে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো ইসলামপন্থী সংগঠন হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত এই সংগঠনটি এখনো গাজায় প্রভাব ধরে রেখেছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণই ইসরায়েলের প্রধান দাবি এবং যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপের আলোচনায় এটি একটি কেন্দ্রীয় ইস্যু।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ সহ মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে এবং হামাস অস্ত্র ত্যাগের চাপে রয়েছে।
ইসরায়েল ইতোমধ্যে ছোট ব্যক্তিগত রাইফেল জব্দসহ বিস্তৃত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছে।
গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে কী অবস্থান নেবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ১৫ সদস্যের ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। এর প্রধান আলী শাআথ বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।