পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ১১ শিশুসহ ১৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নাঙ্গারহার প্রদেশ-এর বেহসুদ জেলায়। তালেবান কর্তৃপক্ষের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাতে একটি কৃষকের বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে ১১ জন শিশু। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
তালেবান সরকার এই হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, উপযুক্ত সময়ে যথাযথ ও পরিমিত জবাব দেওয়া হবে। সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী সাতটি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে গোয়েন্দা তথ্য-ভিত্তিক অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমতে, ইসলামাবাদের একটি ইমামবাড়ায় হামলা এবং বাজাউর ও বান্নুতে হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দেশটির গণমাধ্যমের দাবি, অভিযানে তালেবান কমান্ডার আখতার মুহাম্মদসহ কয়েকজন সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ-এর সাতটি ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরাই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক হামলাগুলো পরিচালনা করেছে।
তবে কাবুল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, পাকিস্তানি বাহিনীর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা আড়াল করতেই এমন আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ-এ এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও এক সিপাহি নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তান প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত কোনো হামলাই জবাবহীন থাকবে না।
সূত্র: আফগান টাইমস, আনাদোলু, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন