.jpg)
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে, একই সাথে হামলার অব্যাহত হুমকি দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। আজ নতুন করে ইসরায়েলের বিমান ঘাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজন এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান অবতরণের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমন এক সময় এসব অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ইসরায়েলে অবতরণ করেছে- যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটিতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতি, কৌশলগত সক্ষমতা এবং শত্রুপক্ষকে ধোঁকা দেওয়ার প্রযুক্তিগত দক্ষতার কারণে এফ-২২ যুদ্ধবিমানকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও কার্যকর যুদ্ধবিমান হিসেবে ধরা হয়। নিজেদের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এই মডেলের যুদ্ধবিমান অন্য কোনো দেশের কাছে বিক্রি করে না। স্থল হামলার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনায়ও এফ-২২ সমানভাবে পারদর্শী।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের বড় বহর ইতোমধ্যে অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এবার সেই প্রস্তুতিতে যুক্ত হলো এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান।
এদিকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আরেক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতের আগে এটিই হতে পারে শেষ কূটনৈতিক সুযোগ। আলোচনায় সমঝোতা না হলে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম ধাপে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হতে পারে। এরপর ইরানকে নির্দিষ্ট শর্তে চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা করা হবে। তাতেও সাড়া না মিললে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
ইসরায়েলের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা গতকাল জানান, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে, তা দিয়ে ইরানে টানা চার থেকে পাঁচ দিন তীব্র হামলা চালানো সম্ভব।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট