
দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও অস্থিরতার আবহ। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই সংলাপের আহ্বান জানিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আলোচনা সহজ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপ সহজ করতে এবং দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় যেকোনও সহায়তা দিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রস্তুত।’
এর আগেও সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে একই ধরনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। গুতেরেস পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সীমান্তে সংঘর্ষ এবং প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তুর্কি।
এর আগে পাকিস্তান জানিয়েছিল, তারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়া শহরে হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানও এ তথ্য নিশ্চিত করে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যে কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ প্রতিহত করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
অপরদিকে আফগান তালেবানের এক মুখপাত্র এক্সে পোস্ট করে দাবি করেছেন, তারা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছেন। তবে পরবর্তীতে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।