
সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান–আফগানিস্তান পরিস্থিতি। সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই; বরং দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার অভিযোগ তুলছে। আফগানিস্তানের খোস্ত অঞ্চলের তালেবান প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিবিসি–কে নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তান দিক থেকে আবারও হামলা চালানো হয়েছে। এতে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। চলমান এই সংঘাত নিরসনে ইতোমধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আফগানিস্তান–পাকিস্তান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারি তবে পাকিস্তানের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক।” তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের চমৎকার একজন প্রধানমন্ত্রী এবং জেনারেল আছেন। এই দুইজনের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে।”
অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান “নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে”। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আফগান তালেবানদের সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৭ জন এবং একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী দাবি করেছেন, এই সংঘাতে ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
সীমান্তের এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।