
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ইরান-এ আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে চালানো যৌথ এই হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলায় বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবন। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বাসভবন, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
শুধু সরকারি স্থাপনাই নয়, ইসরায়েলি হামলার টার্গেটে পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষের আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইসরায়েল ওই হামলা চালায়। সে সময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৭০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল। হামলার পর বহু শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও কারখানা ধ্বংস করে দেব। এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।”
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব অবশ্যই সম্মান করতে হবে এবং সব পক্ষকে উত্তেজনা এড়িয়ে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সামরিক আগ্রাসন পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ অভিযোগ করেছেন, সামরিক অভিযানের আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা ছিল কেবল একটি ‘আড়াল’।
অন্যদিকে চুপ করে বসে নেই ইরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে দেশটি। ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৪টি ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ইরানের পাল্টা হামলার পর আইডিএফ নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া বহু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশসীমায় শনাক্ত হয়েছে। তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে সাইরেন বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আইডিএফ জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয়।
এদিকে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং সেটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।
আইআরজিসি জানায়, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। একইসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর “বৈধ লক্ষ্যবস্তু”।