
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন ঘনিষ্ঠ মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে। বাহিনীটির সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ সংবাদ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী লুইস পি নামের একটি তেলবাহী জাহাজকে পারস্য উপসাগরের মাঝামাঝি এলাকায় চালকবিহীন উড়ন্ত যানের মাধ্যমে আঘাত করা হয়েছে। ইরানি বাহিনীর দাবি, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘স্বাধীন সহযোগিতা চুক্তি’ নামের বিশেষ এক ব্যবস্থার অধীনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। এ চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অনেক জাহাজমালিক প্রশাসনিক সুবিধা, কম ব্যয় এবং সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কারণে তাদের জাহাজ এ দেশে নিবন্ধন করে। ফলে বিভিন্ন দেশের মালিকানাধীন বহু জাহাজ মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চলাচল করে।
এর আগে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে মাল্টার পতাকাবাহী প্রিমা নামের একটি তেলবাহী জাহাজেও চালকবিহীন উড়ন্ত যানের হামলা চালানোর দাবি করেছিল ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এ ধরনের হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।