
দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর খিয়ামকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সেখানে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলাও চালানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, খিয়াম শহরে অন্তত তিন দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা ওই এলাকায় স্থল অভিযান শুরু করেছে।
হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খিয়াম কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশের অন্যতম দ্বার হিসেবে শহরটিকে বিবেচনা করা হয়।
আল জাজিরার সাংবাদিক জেইনা খোদর জানিয়েছেন, খিয়াম ও আশপাশের এলাকায় ‘একটি বড় ধরনের যুদ্ধ চলছে’। তার মতে, এলাকার উঁচু ভূখণ্ড দুই পক্ষের জন্যই কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে।
খোদর বলেন, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে হিজবুল্লাহর সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, যাতে সংগঠনটি নতুন করে অস্ত্র ও যোদ্ধা আনতে না পারে।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালায়। এর পরই সর্বশেষ এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি ইসরায়েল একাধিকবার ভঙ্গ করলেও হিজবুল্লাহ তখন ইসরায়েলের ওপর কোনো হামলা চালায়নি।
সোমবার সকালে ইয়াতের শহরেও ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বুর্জ কালাউইয়া, সুলতানিয়া, চাকরা, কানতারা ও আস-সাওয়ানা এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সেনারা ‘দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে স্থল অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সামনের প্রতিরক্ষা এলাকা বিস্তারে’ মনোযোগ দিয়েছে।
তাদের দাবি, এই অভিযানের অংশ হিসেবে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল’ করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর প্রায় ৮ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০৭ জন শিশু এবং ৬৬ জন নারী রয়েছেন।