
ঈদের দিন ইতিহাসের নজির ভেঙে মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি বাধ্য হয়ে সড়কেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ-এর পর এই প্রথম ঈদের দিনে মসজিদটি কার্যত মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখা হলো বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়, যা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার—বিশেষ করে ইরান-সম্পর্কিত পরিস্থিতির—সঙ্গেও যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মসজিদে প্রবেশের সব প্রধান পথ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। ফলে পুরনো শহরের গেটের বাইরে, সড়ক ও খোলা জায়গায় দাঁড়িয়েই মুসল্লিরা জামাতে অংশ নিতে বাধ্য হন। ভোর থেকেই বিভিন্ন প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং পরিচয়পত্র দেখানোর পরও অনেককে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মুসল্লিদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও বেদনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দিনটিকে “সবচেয়ে দুঃখের ঈদ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একজন বাসিন্দা বলেন, “এই প্রথম আমরা ঈদের নামাজ মসজিদে পড়তে পারলাম না—এটি অত্যন্ত কষ্টের।” ধর্মীয় নেতারাও মুসল্লিদের মসজিদের যতটা সম্ভব কাছাকাছি স্থানে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। আরব লীগ, ওআইসি এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, রমজান ও ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন নিষেধাজ্ঞা মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেরুজালেম-কেন্দ্রিক আল-আকসা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার উৎস। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার অভিযান, প্রবেশে বিধিনিষেধ এবং ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ঈদের দিন মসজিদ বন্ধ রাখার এই ঘটনা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল একটি ধর্মীয় ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনারই প্রতিফলন, যার প্রভাব বিশ্বব্যাপী অনুভূত হচ্ছে।