
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ন্যাটো মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইঙ্গিত দিয়েছেন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জোটের পাশে দাঁড়াবে না।
শুক্রবার মিয়ামিতে আয়োজিত একটি বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প ন্যাটো সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, “তারা তো ছিলই না। আমরা প্রতি বছর ন্যাটোর জন্য শতশত বিলিয়ন ডলার খরচ করি, তাদের রক্ষা করি এবং আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকতাম। কিন্তু এখন, তাদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মনে হয় আমাদের থাকার দরকার নেই, তাই না?”
তিনি আরও বলেন, “তারা যদি আমাদের পাশে না থাকে, তাহলে আমরা কেন তাদের পাশে থাকব? তারা তো আমাদের পাশে ছিলই না।”
প্রায় এক মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থনের ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে সেনা পাঠানোর বিষয়ে মিত্রদের অনাগ্রহ তাকে হতাশ করেছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে এবং দাম বৃদ্ধি পায়।
এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ ছয়টি প্রভাবশালী দেশ জানিয়েছে যে তারা ‘উপযুক্ত উদ্যোগে অবদান রাখতে’ আগ্রহী। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
ন্যাটো জোট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। গত সপ্তাহে তিনি জোটের অন্যান্য সদস্যদের ‘কাওয়ার্ড’ বা কাপুরুষ বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোট কেবল ‘কাগুজে বাঘ’।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাটোর কাছ থেকে কিছুই প্রয়োজন নেই।’
তিনি সেখানে আরও লেখেন, ‘ন্যাটো দেশগুলো এখন সামরিকভাবে বিধ্বস্ত উন্মাদ রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য বিন্দুমাত্র কিছুই করেনি।’