
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন কোনো অভিযানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সরাসরি যুক্ত হবে না।
ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২ রোববার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভেতরে স্থল হামলা শুরু করে, তবুও ইসরাইলের সেনারা সেখানে অংশ নেবে না। এ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, সম্ভাব্য এই অভিযানের পুরো দায়ভার ওয়াশিংটনের ওপরই ছেড়ে দিতে চায় তেল আবিব।
প্রতিবেদনটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জানা গেছে, পেন্টাগন সীমিত আকারের হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক বিকল্প প্রস্তুত করছে। যদিও হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের কোনো পদক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন।
এদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এমন কোনো স্থল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ভুল প্রমাণিত হতে পারে। রবার্ট পেপ, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক, বলেন ভিয়েতনাম যুদ্ধই দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে একটি বিমানকেন্দ্রিক সংঘাত ধীরে ধীরে স্থলযুদ্ধে রূপ নেয়।
তিনি আরও সতর্ক করেন, ইরান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং আগামী ১০ দিন পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চ্যানেল ১২-এর এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকদের অভিযোগ, ওয়াশিংটনকে একটি ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অথচ ইসরাইল নিজে ইরানের ভেতরে সেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর