
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরাসরি মার্কিন জনগণের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তিনি এই খোলা চিঠিতে বাস্তবতা উপলব্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ওই চিঠিতে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন নাগরিকদের ‘ভুল তথ্যের মেকানিজম’ বা অপপ্রচারের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে দেখার সময় এসেছে।
চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ইরানকে বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা ইতিহাস বা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং অস্ত্র ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য ইরানকে ইচ্ছাকৃতভাবে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন বা সম্প্রসারণবাদী নীতি অনুসরণ করেনি। বরং নানা সময় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর চাপ ও হস্তক্ষেপের শিকার হলেও দেশটি নিজ থেকে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের জনগণের মধ্যে আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই। তবে আক্রমণের মুখে পড়লে দেশটি আত্মরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত এই যুদ্ধ আসলে মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে কি না, নাকি এটি ইসরায়েলের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ফিলিস্তিনে সংঘটিত ঘটনাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর কৌশল।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিরও সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরানের চারপাশের দেশগুলোতে মার্কিন সেনা ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই সাম্প্রতিক হামলা চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যেকোনো দেশের জন্য স্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ইরানের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এতে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই।
মার্কিন জনগণের প্রতি বার্তায় তিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন, যারা ইরান ভ্রমণ করেছেন বা বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সফল ইরানি অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা থেকে দেশটিকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত।
এ চিঠি প্রকাশের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন, ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর প্রথম হামলা চালানোর পর থেকেই মার্কিন জনমতের বড় একটি অংশ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম হামলার যুক্তি তুলে ধরা হলেও এর পক্ষে এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সূত্র: টাইম নিউজ