
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় শুরু হয়েছে বড় ধরনের রদবদল। এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থাকা জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন বলে তিনজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পেন্টাগনের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেনারেল জর্জকে তাৎক্ষণিকভাবে অবসরে পাঠানো হয়েছে। তবে তার চার বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হতে এখনও এক বছরের বেশি সময় বাকি থাকা সত্ত্বেও কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো—সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, শুধু জেনারেল জর্জই নন, একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হডনি এবং আর্মি চ্যাপলেন কোরের প্রধান মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক পিট হেগসেথ প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পেন্টাগনের কাঠামো পুনর্গঠনে ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি তুঙ্গে এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সদস্য সেখানে মোতায়েন রয়েছে। যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধানকে অপসারণের ঘটনা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী।
এদিকে, জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন জেনারেল ক্রিস্টোফার লানিভ, যিনি আগে প্রতিরক্ষা সচিবের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত বছর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি.কিউ. ব্রাউনসহ নৌ ও বিমানবাহিনীর কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।