
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের অভিঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করতেই চাপে পড়েছে পাকিস্তান। মূল্যস্ফীতি ও জনঅসন্তোষ সামাল দিতে সরকার রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশে এক মাসের জন্য সরকারি গণপরিবহন বিনামূল্যে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই জরুরি পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৪৮৫ রুপি নির্ধারণ করা হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে সমালোচনার মুখে পড়ে শুক্রবার পেট্রোলের দাম কমিয়ে ৩৭৮ রুপি নির্ধারণ করা হয়। তবে ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখে ৫২০ রুপিতে রাখা হয়েছে, যা কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লাহোরসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ এই মূল্যবৃদ্ধিকে ‘পেট্রোল বোমা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সংকট মোকাবিলায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ছয় মাস মন্ত্রিসভার সদস্যরা কোনো বেতন নেবেন না। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে অনেক সরকারি দপ্তরে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে এই মুদ্রাস্ফীতি। যতক্ষণ না জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ আমি শান্ত হব না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, শনিবার থেকে ৩০ দিনের জন্য ইসলামাবাদের সব সরকারি গণপরিবহন বিনামূল্যে চলবে, যার জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি। একই উদ্যোগ নিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ, যেখানে সরকারি পরিবহনে ভাড়ামুক্ত চলাচলের পাশাপাশি ট্রাক ও বাসের জন্য বিশেষ ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সিন্ধুর করাচিতে মোটরসাইকেল চালক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য আলাদা প্রণোদনার কথাও জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় পুরো এশিয়াজুড়ে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সরকার জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে অন্তত ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে।