
ইরানের ভেতরে ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে ঘিরে টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযান। দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর তীব্র গোলাগুলির মধ্যেই তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে।
অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি হঠাৎ জটিল হয়ে ওঠে, যখন দুর্গম এলাকায় ব্যবহৃত দুটি মার্কিন সামরিক বিমান অচল হয়ে পড়ে। সেগুলো ফেলে রাখা হলে ইরানি বাহিনীর হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সংবেদনশীল প্রযুক্তি সুরক্ষার স্বার্থে মার্কিন বাহিনী নিজেই বিমান দুটি ধ্বংস করে দেয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের জন্য নির্ধারিত ওই দুটি বিমান ইরানের দুর্গম এলাকায় অকার্যকর হয়ে পড়ার পর সেগুলো ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই তথ্য তুলে ধরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, যেখানে বলা হয়েছে—উদ্ধার অভিযানে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত এসব বিমান হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বিমানগুলো দিয়েই নিখোঁজ অস্ত্র কর্মকর্তা (ওয়েপনস অফিসার) ও উদ্ধারকারী দলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঝপথে সেগুলো অচল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে বিমানগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, যা সামরিক গোপনীয়তা ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত বিকল্প পরিকল্পনা নেয় মার্কিন কমান্ডাররা। অতিরিক্ত তিনটি নতুন বিমান পাঠিয়ে অভিযান চালিয়ে যাওয়া হয় এবং সেগুলোর সহায়তায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
উদ্ধার মিশনটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের সময় মার্কিন বাহিনীকে তীব্র গোলাগুলির মুখে পড়তে হয়। এই সংঘর্ষের মধ্যেই তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।
এর আগে জানা যায়, বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ওই ক্রু সদস্য টানা দুই দিন ইরানি বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করে ইরানের বাইরে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের একটি।