
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে এক মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছেন ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কুরেন রেইন। তার জন্মদাত্রী মা, ৪১ বছর বয়সী টাইয়াস অনিনস্কি, নিজ হাতে মেয়েকে হত্যা করেছেন। তবে হত্যার অদ্ভুত কারণ শুনে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত। অভিযুক্ত মা দাবি করেছেন, তিনি মেয়েকে ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে এই পথ বেছে নিয়েছেন।
ঘটনা ঘটে গত ২০ মার্চ। টাইয়াস নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে মেয়েকে হত্যা করার কথা জানান। প্রায় ১৩ মিনিটের দীর্ঘ ফোনকলে তিনি শান্ত কণ্ঠে বলেন, আগের রাতে তিনি কুরেনকে হত্যা করেছেন। পুলিশ অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে চাইলে তিনি জানিয়ে দেন, মেয়ের আর কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই কারণ সে মারা গেছে। তবে নিজের জন্য তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন, কারণ নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
হত্যার কারণ জানতে চাইলে টাইয়াস বলেন, মেয়েকে রক্ষা করার প্রয়োজন ছিল। তিনি সরাসরি টেক বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের নাম উল্লেখ করেন। কিন্তু কেন বা কীভাবে মাস্ক তার মেয়ের জন্য হুমকি ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ফরেনসিক পরীক্ষায় টাইয়াসের শরীরে এমফিটামিন ও টিএইচসি-এর মতো শক্তিশালী মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তিনি চিকিৎসকদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে কি না।
এই ঘটনার পর টাইয়াসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ (‘ফার্স্ট ডিগ্রি ইনটেনশনাল হোমিসাইড’) আনা হয়েছে। আদালত তার জামিন ১০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে এবং বর্তমানে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।
নিহত কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা শোকাহত, এবং কুরেনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য তহবিল গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য পিপল ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।