
ইউরোপ যখন অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার পথে হাঁটছে, ঠিক তখনই বিপরীত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছে স্পেন। দেশটি প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ–এর নেতৃত্বাধীন সরকার এই কর্মসূচিতে অনুমোদন দেয়। সরকারের মতে, অর্থনৈতিক প্রয়োজন, জনসংখ্যাগত চাপ এবং শ্রমবাজারের ঘাটতি বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাস ও কাজের অনুমতি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী বৈধতায় রূপ নিতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
এই সুযোগ পেতে হলে আবেদনকারীদের কমপক্ষে পাঁচ মাস স্পেনে অবস্থানের প্রমাণ এবং অপরাধমুক্ত থাকার তথ্য দেখাতে হবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে জুনের শেষ পর্যন্ত। অনুমোদন পেলে তারা বৈধভাবে কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা পাবেন।
সরকার বলছে, এসব অভিবাসী ইতোমধ্যেই দেশের অর্থনীতি ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন ও সেবাখাতে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত চাপ মোকাবিলা এবং শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে মাদ্রিদ।
তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টি এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সামাজিক গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে।
ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রেক্ষাপটে স্পেনের এই উদ্যোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেকেই এটিকে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরাও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। একটি ভিডিও চিত্রে বার্সেলোনায় তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তারা।
মুরুল ওয়াইদ নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসী বলেন, “এখানে কাজ নেই, থাকার ঘর নেই। এখানে জীবনযাপন খুবই কঠিন। তাই এখন বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর খবরে সবাই খুবই খুশি।”