
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেছে মার্কিন প্রশাসন ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। মিশরের রাজধানী কায়রোতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে অনুষ্ঠিত এই আলোচনাকে এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল
সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিনিয়র উপদেষ্টা আরিয়ে লাইটস্টোন। অন্যদিকে হামাসের পক্ষে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছেন দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়া। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বৈঠকের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গাজা পরিস্থিতির উন্নয়নে এই আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম।
আলোচনার মূল এজেন্ডা
বৈঠকে প্রধানত যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় সফলভাবে বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের অবরোধ শিথিল করা। হামাস প্রতিনিধি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এসব শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হলে পরবর্তী ধাপের আলোচনায় যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
নিরস্ত্রীকরণ বনাম মানবিক দাবি
সূত্রমতে, আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বেশ জোরালোভাবে তোলা হয়েছিল। তবে হামাস এই প্রস্তাবকে ‘অসম ভারসাম্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অবস্থান স্পষ্ট—আগে গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সংকট দূর করতে হবে।
অনিশ্চয়তায় গাজার ভবিষ্যৎ
গত অক্টোবর থেকে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় এখনো বারুদের গন্ধ কমেনি। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ইসরায়েলি হামলায় অনেক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনভার কার হাতে থাকবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে কিংবা সেখানে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না—এমন সব মৌলিক প্রশ্নে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও মতভেদ রয়ে গেছে।