
ওয়াশিংটনের বহুল আলোচিত ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ অনুষ্ঠানে হামলার চেষ্টাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক—হামলাকারীর ইশতেহারের উদ্ধৃতি তুলে ধরায় এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (২৭ এপ্রিল) সিবিএস নিউজ-এর সাংবাদিক নোরাহ ও'ডোনেল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ অস্বীকার করে জোরালোভাবে বলেন, ‘আমি ধর্ষক নই, আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, সাংবাদিকরা অত্যন্ত ‘ভয়ংকর’ আচরণ করছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একজন ‘অসুস্থ’ ব্যক্তির ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচার করছেন। তার মতে, ওই ইশতেহারের ভাষা মূলত প্রয়াত বিতর্কিত অর্থদাতা জেফ্রি এপস্টাইন-এর সঙ্গে তার সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে তৈরি করা হয়েছে, যদিও সেখানে এপস্টাইনের নাম উল্লেখ ছিল না।
তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি সব ধরনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। উল্টো ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট নেতাদের দিকে অভিযোগ তুলে বলেন, এপস্টাইনসহ বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে বিরোধী শিবিরের লোকজনই জড়িত ছিলেন। নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনার লজ্জা হওয়া উচিত একজন অসুস্থ মানুষের লেখা এসব আবর্জনা পড়ার জন্য, কারণ আমি এর কোনোটিই নই।’
হামলাকারী ৩১ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা কোল টমাস অ্যালেন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তিনি তার ইশতেহার পড়েছেন এবং তার কাছে অ্যালেন একজন ‘উগ্রবাদী’ ও ‘খ্রিস্টান-বিদ্বেষী’ ব্যক্তি বলে মনে হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, একসময় ধর্মবিশ্বাসী হলেও পরে তিনি ধর্মবিদ্বেষী হয়ে ওঠেন।
এই ঘটনার জন্য রাজনৈতিক সহিংসতার দায় ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’-এর ওপর চাপান ট্রাম্প। তার অভিযোগ, বিরোধীদের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশের পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলছে। গত দুই বছরে এটি তার বিরুদ্ধে তৃতীয় দফা প্রাণনাশের চেষ্টা হলেও তিনি জানান, গুলির শব্দ শুনেও তিনি বিচলিত হননি।
ঘটনার সময় নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলেন। একই সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-কে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলেও তিনি কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে চেয়েছিলেন।
এছাড়া ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প-এর ধৈর্যের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই ঘটনাকে শুধু নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবেই দেখছেন না; বরং এর সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।
সূত্র: এনডিটিভি