
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব এখন সরাসরি অনুভূত হচ্ছে ইরানের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায়। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থবিরতা এবং কাঁচামালের তীব্র সংকটে দেশটিতে জীবনদায়ী ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যা সাধারণ রোগীদের জন্য এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সরবরাহ ব্যাহত ও মূল্যবৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)-এর ইরান মিশনের প্রধান গ্রিগর সিমোনিয়ান জানিয়েছেন, ইরানের স্বাস্থ্যখাত নিজস্ব উৎপাদিত চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও যুদ্ধের প্রভাব তা নড়বড়ে করে দিয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। স্বাভাবিকভাবেই ওষুধের দামও বেড়েছে, এবং আমরা তা লক্ষ্য করেছি।’
ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে কিছু ওষুধের দাম দ্বিগুণ হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১,০০০ শতাংশ বা ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ওষুধের মূল্যে পরিবর্তন এসেছে।
চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় ও মানসিক উদ্বেগ
সিমোনিয়ান আরও উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। মজার বিষয় হলো, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে রোগীরা শারীরিক সমস্যার চেয়েও ‘কাউন্সিলিং’-এর জন্য বেশি আসছেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন রোগীরা। এই সময়টাতে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তা তাদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।‘
সংকটের নেপথ্যে বহুমুখী কারণ
বিশ্লেষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই ভয়াবহ সংকটের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা: যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে চিকিৎসা সরঞ্জামের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অবকাঠামোগত ক্ষতি: সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বড় বড় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্দর অবরোধ: ইরানের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরে মার্কিন অবরোধের ফলে ওষুধের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফলশ্রুতিতে, স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদন যেমন কমছে, তেমনি আমদানিকৃত ওষুধের বাজারও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে দেশটিতে বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।