
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় অবশেষে পিছু হটলো মার্কিন প্রশাসন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৩৯টি দেশের চিকিৎসকদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ ও পেশাগত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে দেশটি, যা সংকটে থাকা হাজারো চিকিৎসকের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউএসসিআইএস-এর নতুন সিদ্ধান্ত
গত সপ্তাহের শেষভাগে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট প্রকাশ করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট ওই ৩৯টি দেশের চিকিৎসকদের ভিসা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ঝুলে থাকা আবেদনগুলো এখন থেকে নিয়মিতভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। দীর্ঘদিনের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার ফলে এখন তাদের আবেদন আর আটকে রাখা হবে না।
কেন এই সংকট তৈরি হয়েছিল?
পূর্বের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কঠোরতায় এই ৩৯টি রাষ্ট্রের চিকিৎসকদের অভিবাসন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছিল। এর ফলে তারা নতুন ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারছিলেন না। উল্লেখ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট চিকিৎসকদের প্রায় ২৫ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশটির হাসপাতালগুলোতে:
দক্ষিণ আফ্রিকা, ভেনেজুয়েলা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চিকিৎসকেরা সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।
অনেক হাসপাতাল তাদের অভিজ্ঞ বিদেশি চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়।
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কর্মী সংকটের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে।
চিকিৎসক সংগঠনগুলোর চাপ ও জাতীয় স্বার্থ
আইনি জটিলতায় পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনেক চিকিৎসক নিজেদের পেশাগত বৈধতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে একাধিক প্রভাবশালী মার্কিন চিকিৎসক সংগঠন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে চিঠি পাঠিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা স্পষ্টভাবে জানায়, চিকিৎসকদের এই নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি দেশের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
কারা এই সুবিধা পাচ্ছেন?
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, শিথিল করা এই সুবিধা আপাতত কেবল যারা ইতোমধ্যে মার্কিন ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন, তাদের জন্যই কার্যকর হবে। অর্থাৎ, যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রবেশের পুরনো বিধিনিষেধগুলো এখনো বহাল রয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং হাসপাতালগুলোর সেবার মান পুনরায় স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।