
দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পিনারাই বিজয়নের বাম দুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ের পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট।
সোমবার (৪ মে) ভোট গণনার শুরু থেকেই শিক্ষিত এই রাজ্যের ভোটারদের পরিবর্তনের রায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইউডিএফ-এর ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ
কেরালায় সরকার গঠনের জন্য ১৪০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ৭১টি আসনের গণ্ডি ইতিমিধ্যেই পার করেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
মোট ১২৭টি আসনের প্রাথমিক প্রবণতায় ইউডিএফ একাই ৭৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
এই সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে কেরালায় দীর্ঘ সময় পর কংগ্রেস জোটের ক্ষমতায় ফেরা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
এলডিএফ ও ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। গত নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হলেও এবার তারা মাত্র ৩৯টি আসনে এগিয়ে আছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, বর্তমান মন্ত্রিসভার ১২ জন প্রভাবশালী মন্ত্রী নিজ নিজ আসনে পিছিয়ে পড়েছেন, যা বাম শিবিরের জন্য এক চরম রাজনৈতিক পরাজয়ের বার্তা দিচ্ছে।
অস্তিত্ব সংকটে বিজেপি ও অন্যান্যরা
কেরালার রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালালেও তার প্রতিফলন ব্যালটে দেখা যায়নি।
বিজেপি: গেরুয়া শিবির মাত্র ৫টি আসনে লিড নিয়ে কোনোমতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
স্বতন্ত্র ও অন্যান্য: ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন ৮টি আসনে।
বিজেপির বড় বড় প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কেরালায় দলটির এই করুণ দশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এক বড় ধাক্কা।
পরিবর্তনের পেছনের কারণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ ছিল, তার সুফল পেয়েছে ইউডিএফ। কংগ্রেস জোটের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং নতুন কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার শিক্ষিত ভোটারদের টেনেছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক গণনার চিত্র বলছে, কেরালার রাজনীতিতে আবারও তেরঙ্গা ওড়াতে যাচ্ছে ইউডিএফ।