
টেক দুনিয়ার দুই মহারথী ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের মধ্যকার আইনি লড়াইয়ে এক নাটকীয় মোড় এসেছে। ওপেনএআই-এর প্রাক্তন বোর্ড সদস্য শিবন জিলিস, যিনি ব্যক্তিগত জীবনে ইলন মাস্কের চার সন্তানের জননী, ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) আদালতে দেওয়া এই সাক্ষ্যে উঠে এসেছে ওপেনএআই-এর মালিকানা বদলের নেপথ্য কাহিনী এবং মাস্কের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অজানা সব তথ্য।
ওপেনএআই-এর আদর্শিক বিচ্যুতি ও মামলা
ওপেনএআই-কে অলাভজনক থেকে মুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া রুখতে স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইলন মাস্ক। ওকল্যান্ডের আদালতে জিলিস জানান, শুরুর দিকে ওপেনএআই-কে লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করার প্রাথমিক আলোচনায় তিনিও যুক্ত ছিলেন। তিনি সাক্ষ্য দেন যে, ২০১৭ সালেই বিনিয়োগ সংগ্রহের তাগিদে অলাভজনক কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল এবং মাস্ক নিজেও সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।
যেভাবে মাস্কের সন্তানদের মা হলেন জিলিস
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জিলিস তার মাতৃত্ব নিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য দেন। তিনি জানান, ২০২০ সালের দিকে যখন তিনি মা হওয়ার কথা ভাবছিলেন, তখন মাস্ক তাকে শুক্রাণু (স্পার্ম) দানের প্রস্তাব দেন। জিলিস বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে মা হতে চেয়েছিলাম। ঠিক ওই সময়ে ইলন আমাকে একটি প্রস্তাব দেন এবং আমি তা গ্রহণ করি।’
জিলিস আরও উল্লেখ করেন যে, মাস্ক সেই সময়ে তার চারপাশের সবাইকে সন্তান নিতে উৎসাহিত করছিলেন। শুরুতে মাস্কের পিতৃত্বের বিষয়টি ‘কঠোরভাবে গোপন’ রাখার চুক্তি থাকলেও বর্তমানে মাস্ক তাদের চার সন্তানের জীবনেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
মাস্কের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
আদালতে উপস্থাপিত ইমেইল ও বার্তালাপ থেকে জানা যায়, ইলন মাস্ক ওপেনএআই-এর ওপর একক নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে তার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জিলিসের একটি ইমেইল অনুযায়ী, টেসলার সাথে যুক্ত হওয়া ‘তাৎক্ষণিকভাবে অর্থায়নের সমস্যার সমাধান করবে’ বলে তিনি মনে করেছিলেন। তবে স্যাম অল্টম্যান ও অন্যান্য সহ-প্রতিষ্ঠাতারা মাস্ককে নিয়ন্ত্রণ দিতে রাজি না হওয়ায় সেই সমঝোতা ভেস্তে যায়।
অল্টম্যানের সাথে সম্পর্ক ও গোপনীয়তা
জিলিস জানান, ২০২১ সালে জন্ম নেওয়া যমজ সন্তানের বাবা যে ইলন মাস্ক, তা তিনি শুরুতে স্যাম অল্টম্যানের কাছে গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে মিডিয়াতে জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন। তবুও অল্টম্যান ও গ্রেগ ব্রকম্যান তাকে বোর্ডে রাখতে চেয়েছিলেন। জিলিস বলেন, ‘ইলন-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা তার ওপর আস্থা রেখেছিলাম।’
২০২৩ সালে মাস্ক যখন ওপেনএআই-এর প্রতিদ্বন্দ্বী 'এক্সএআই' (xAI) চালু করেন, তখন জিলিস ওপেনএআই-এর বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। সিলিকন ভ্যালিতে দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই নারী এখন মাস্ক ও অল্টম্যানের এই আইনি যুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
মামলাটির মাধ্যমে এখন এটিই দেখার বিষয় যে, ওপেনএআই-এর শুরুর দিকের স্বপ্ন আর বর্তমানের বাণিজ্যিক লক্ষ্যের মধ্যকার এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়।
ইলন মাস্কের এই মামলা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে আপনার মতামত কী?