
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ইরানের অবরুদ্ধ ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শনিবার (৩০ মে) প্রচারিত এক প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটি ‘অনানুষ্ঠানিক’ খসড়ার বরাত দিয়ে জানায়, চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে ওই অর্থের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। এর ফলে তেহরান চাইলে অর্থগুলো নিজের পছন্দের দেশের ব্যাংকে স্থানান্তর ও ব্যবহার করতে পারবে। তবে ওয়াশিংটন এ ধরনের দাবিকে ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত অনুরূপ তথ্য নিয়েও হোয়াইট হাউস একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও ইরানি সূত্রের খণ্ডন
সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্তারিত বক্তব্যের এক দিন পরই ইরানের পক্ষ থেকে নতুন এই দাবি সামনে এলো। যদিও ট্রাম্পের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশ ইরানি সূত্রগুলো খণ্ডন করেছে। রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থের আদান-প্রদান হবে না।'
এদিকে, চলতি সপ্তাহে একটি সূত্র জানায়, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাতার সফরকারী একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন। অবরুদ্ধ তহবিলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্যই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং বিষয়টি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বিমত
রাষ্ট্রীয় টিভির দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতার পরও তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অবরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প শুক্রবার বলেন যে ইরান হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করবে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথের ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।