
লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের ফলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে ত্রিমুখী চাপের মুখে রয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লেবানন যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের কৌশলগত অর্জন এখন প্রশ্নের সম্মুখীন।
লন্ডনের কিংস কলেজের সিনিয়র লেকচারার আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আলজাজিরাকে বলেন, নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের দিকে এগোচ্ছে, যার মধ্যে লেবানন পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই কূটনৈতিক তৎপরতা ইসরায়েলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর ফলে তেল আবিবকে তাদের সামরিক অভিযানের লাগাম টেনে ধরার জন্য ওয়াশিংটন থেকে প্রবল চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের বিভিন্ন দুর্গ বা ঐতিহাসিক স্থাপনা দখলের ঘটনাগুলোকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে বড় সাফল্য হিসেবে প্রচার করা হলেও, বাস্তবে এগুলো কোনো টেকসই কৌশলগত বিজয় বয়ে আনেনি। আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, নেতানিয়াহু এখন এমন এক অবস্থানে আছেন যেখানে তাঁকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে। তবে পিছু হটার আগে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে এবং দেশের অভ্যন্তরে একটি 'বিরাট সাফল্যের' ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
আলজাজিরার বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, গাজা থেকে লেবানন পর্যন্ত ইসরায়েলের যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক নীতি বা ‘পার্মা-ওয়ার’ (Permanent War) চলছে, তা এখন পর্যন্ত দেশটির জন্য কোনো বাস্তব নিরাপত্তা বা লাভ বয়ে আনতে পারেনি। বরং এটি ইসরায়েলকে একটি অন্তহীন যুদ্ধের চক্রে আটকে ফেলেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।
নেতানিয়াহু যদিও ঘোষণা করেছেন যে "লড়াই থামবে না, সামনে আরও বড় আঘাত আসছে", কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতাই এখন মূল নির্ধারক হয়ে উঠছে।