
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বরাজনীতির পর্দার আড়ালের এক বিস্ফোরক তথ্য খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখ থেকেই বেরিয়ে এলো। লেবাননে ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার কারণে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিনি ‘পাগল’ বলে গালি দিয়েছিলেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে এমন কড়া মন্তব্য করলেও তেল আবিবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরেনি, বরং নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বোঝাপড়া এখনো চমৎকার রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আমেরিকার প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় যখন ইরান ও লেবানন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছিল, ঠিক তখনই এক হাই-প্রোফাইল ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৩ জুন) মার্কিন গণমাধ্যম ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিজে মুখে কবুল করেন ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছিল, ওই ফোনালাপে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন এবং তাঁকে অবিলম্বে যুদ্ধ থামানোর তাগিদ দেন। এ বিষয়ে পডকাস্টে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অকপটে জানান, তিনি সত্যিই ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে তা কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাগ থেকে নয়; বরং লেবাননে ইসরায়েলের অনড়ভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার একগুঁয়েমি তাকে তীব্রভাবে বিরক্ত করেছিল।
অবশ্য সমস্ত বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’। প্রায় একই সুরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁদের দুজনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একদম অভিন্ন। মাঝেমধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলেও তা দুই দেশের গভীর সম্পর্কের অবনতি নির্দেশ করে না।
প্রভাবশালী দুই নেতার এমন ভালো সম্পর্কের দাবির মধ্যেই কিন্তু লেবানন সীমান্তের বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা অবিরাম চলছে। অন্য দিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়ে জানানো হয়েছে যে, লেবাননকে যতক্ষণ না এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আওতাভুক্ত করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তেহরান কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় সই করবে না।