
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে তাঁর অবস্থান বা বক্তব্যে পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়; বরং এটি তাঁর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন। পরিস্থিতি ও বাস্তবতা দ্রুত বদলে গেলে মার্কিন নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তাঁর কোনো নীতি বা বক্তব্যে মানুষ বিভ্রান্ত হলে তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। বিশেষ করে ইরান যদি মার্কিন কৌশল নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকে, সেটিকে তিনি কৌশলগতভাবে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন। তাঁর ভাষায়, অবস্থান পরিবর্তন করা মূলত বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, "কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরও অল্প সময়ের মধ্যে যদি নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে, তবে আগের সেই উত্তর আর সঠিক নাও থাকতে পারে। কারণ বাস্তবতা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়, নতুন তথ্য আসে এবং বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ খুব দ্রুত মোড় নেয়।" এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় নিজের অবস্থানকে তিনি স্থির বা অনড় নয়, বরং পরিস্থিতিনির্ভর এবং পরিবর্তনশীল হিসেবেই দেখেন।
ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত ছিল যা আর বিলম্ব করার কোনো সুযোগ ছিল না। তাঁর মতে, সময়মতো এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চূড়ান্ত সক্ষমতা পেয়ে যেত।
ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান ছিল একটি প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে ইরান আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তাঁর চিরচেনা 'আনপ্রেডিক্টেবল' বা অপ্রত্যাশিত কূটনীতিরই অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।