
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানাগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে তিনি দাবি করেছেন, ধারাবাহিক হামলায় তেহরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ইতিমধ্যে অকার্যকর বা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) এনবিসি নিউজ (NBC News)-এর খ্যাতনামা সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানের ড্রোন কোথায় আছে এবং তাদের ড্রোন কারখানাগুলো ঠিক কোথায় অবস্থিত—তা এখন আমাদের নখদর্পণে।” ইরানের হাতে বর্তমানে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবশিষ্ট রয়েছে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে শতকরা হিসাব টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “তাদের (ইরান) এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তবে শতকরা হিসেবে বলতে গেলে, হয়তো ২১ বা ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো টিকে আছে।” তিনি উল্লেখ করেন, অবশিষ্ট এই পরিমাণ অস্ত্রও ‘অনেক’, তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক অভিযানের আগের তুলনায় এটি খুবই সামান্য।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, “ইরানের নেতৃত্ব অত্যন্ত ‘গর্বিত’, যার কারণে আলোচনা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আমার মনে হয় তারা এখনো বিশ্বাসই করতে পারছে না যে তারা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে, যেখানে তাদের নেতৃত্ব কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তারা এমন কিছু করতে বাধ্য হচ্ছে, যা কখনো কল্পনাও করেনি। কিন্তু এখন তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।”
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই অবশ্য কূটনৈতিক আলোচনার ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ‘বেশ ভালোই এগোচ্ছে’।
চুক্তির সময়সীমা নিয়ে সম্ভাব্য একটি ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নাও হতে পারে, তবে চলতি সপ্তাহান্তেই (Weekend) একটি বড় সমঝোতা চলে আসতে পারে।”