
ভূ-রাজনৈতিক নানা জটিলতা এবং ভিসা সংক্রান্ত টানাপোড়েন পেছনে ফেলে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে অবশেষে মেক্সিকোতে পা রেখেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গ্রুপ পর্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে, নিজেদের শেষ মুহূর্তের রণকৌশল ও চূড়ান্ত অনুশীলনের ভেন্যু হিসেবে দলটি মেক্সিকোকে বেছে নিয়েছে।
টিজুয়ানা বিমানবন্দরে বিমান থেকে প্রথম ফুটবলার হিসেবে পা রাখেন তারকা খেলোয়াড় এহসান হাজসাফি। সাদা টি-শার্টের ওপর নীল ব্লেজার পরিহিত পুরো ইরানি বহরটিকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে আসেন। মেক্সিকান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা রক্ষী কুকুরের কঠোর নজরদারিতে একটি সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে দলটি সরাসরি অপেক্ষারত বাসে গিয়ে ওঠে। বাসটি বিমানবন্দরের প্রধান ফটকে সামান্য সময়ের জন্য থামলে সেখানে অপেক্ষারত প্রায় ২০ জন ইরানি ফুটবল সমর্থক নিজ দেশের পতাকা উড়িয়ে খেলোয়াড়দের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই জল ঘোলা কম হয়নি। বিশেষ করে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ভিসা জটিলতার কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের প্রাথমিক কন্ডিশনিং ক্যাম্প আমেরিকার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসন থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তের একদম কাছাকাছি মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে নতুন ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এর আগে ইরানি দলটি তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্টালিয়াতে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত ছিল এবং সেখান থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে সরাসরি মেক্সিকোতে এসে পৌঁছায়।
ইরানের এই বিশ্বকাপ যাত্রা মোটেও মসৃণ ছিল না। চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার জন্য সরাসরি নিরুৎসাহিত করেছিলেন। ইরানি ফুটবলারদের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা জানিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতিতে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ‘উপযুক্ত’ বলে তিনি মনে করেন না।
অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পরদিনই ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। তারা বিশ্বমঞ্চে হুঙ্কার দিয়ে জানিয়ে দেয়, ইরানকে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বাদ দেওয়ার বা ‘বর্জন করার ক্ষমতা কারও নেই’। যাবতীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে ইরানি স্কোয়াড এখন মাঠের মূল লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।