
বিশ্বকাপ ফুটবল মিশনের অংশ হিসেবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দল এখন অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে। তবে মাঠের ফুটবল উন্মাদনার মাঝেই শহরটিতে ঘটে গেছে এক চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা। কানসাস সিটিতে একাধিক স্থানে চলা বন্দুকধারীদের তাণ্ডবের মধ্যে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বহনকারী একটি উবার গাড়িও ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘটা এই সহিংসতায় এক সমর্থক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত চারজন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। এই ঘটনার পর পুরো শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে আর্জেন্টিনার ওই সমর্থকদের বহনকারী উবার চালকও রয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে কানসাস সিটির বিভিন্ন পয়েন্টে দফায় দফায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঠিক একই সময়ে ইন্টারস্টেট ৭০ এবং ইন্টারস্টেট ৬৭০ হাইওয়েতেও বেশ কয়েকটি গুলি ছোঁড়া হয়। এই মহাসড়ক দুটি অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে ওই সময় মাঠের ভেতরে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি চলছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই নারকীয় হামলার ঘটনায় জড়িত ২২ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজন যুবক এখনও পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকে ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে হন্যে হয়ে খুঁজছে।
ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে আক্রান্ত আর্জেন্টিনা সমর্থকরা জানান, একটি অজ্ঞাত গাড়ি হঠাৎ করেই হাইওয়েতে তাদের উবারের সমান্তরালে চলে আসে এবং আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে। এতে চালকের পায়ে সরাসরি গুলি লাগে। তবে প্রথম মুহূর্তে বিকট শব্দ শুনে তারা ভেবেছিলেন গাড়ির চাকা ফেটে গেছে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, হামলায় উবার চালক গুলিবিদ্ধ হলেও তার ক্ষতটি প্রাণঘাতী ছিল না এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে একই গাড়িতে থাকা গুরুতর আহত ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন সমর্থক মারাত্মক জখম নিয়ে হাসপাতালে লড়ছেন।
বিশ্বকাপের মতো একটি মেগা আসর চলাকালীন স্বাগতিক শহরের বুকে এমন ভয়াবহ সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনায় পুরো টুর্নামেন্টের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।