
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে কাতারে অবরুদ্ধ ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত তেহরানের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (২১ জুন) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পরই কাতারে স্থগিত থাকা অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা ইরানে স্থানান্তর করা হবে।
তবে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা হলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরানের অবস্থানে পরিবর্তন আসবে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে ইরান কোনো অবস্থাতেই সরে দাঁড়াবে না এবং আন্তর্জাতিক মহলকে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য কখনোই অস্ত্র তৈরি নয়। তার মতে, পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই এবং বহু বছর ধরেই দেশটির নীতিতে এই অবস্থান বজায় রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং আব্বাস আরাগচি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বিরোধ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে সম্ভাব্য অগ্রগতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি