
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে ইসরায়েল কোনো অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিটি ভণ্ডুল করতে ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ নিতে পারেন।
শনিবার (২০ জুন) জিও নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, হিজবুল্লাহবিরোধী সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রশ্নে নেতানিয়াহু বর্তমানে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিতে ইসরায়েল অসন্তুষ্ট। তাদের ধারণা, সমঝোতার ফলে লেবাননে চলমান সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতা আগের তুলনায় সীমিত হয়ে যেতে পারে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, লেবাননের কিছু ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার মতে, সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন না হলে যে কোনো সময় হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা এবং কিছু কূটনৈতিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তির ইঙ্গিত তৈরি করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তি রয়েছে। কারণ এসব শর্ত তেহরান এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির ইসরায়েলি কৌশলকে দুর্বল করতে পারে বলে তারা মনে করছে।
এদিকে চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা চালাতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরাই নিজ নিজ দেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছেন।
হোয়াইট হাউস উইটকফের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বৈঠকের বিস্তারিত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। একইভাবে ইরানের সংবাদমাধ্যমেও আরাগচির সফর নিয়ে সীমিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের কথা ছিল। ওই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের।
সূত্র: জিও নিউজ