
ভারতের অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। এবার এ ঘটনায় আসাদউদ্দিন ওয়াইসি উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সমালোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্দিরের অনুদান তহবিল থেকে কয়েক কোটি রুপির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ কোটি রুপির নগদ অর্থের হিসাব মিলছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার উত্তর প্রদেশের বিজনৌরে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন প্রধান ওয়াইসি বলেন, যদি এই ট্রাস্টে কোনো মুসলিম সদস্য থাকতেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অনেক আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এই হায়দরাবাদভিত্তিক রাজনীতিক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মন্দির নির্মাণের জন্য দেশ-বিদেশের ভক্তরা বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার অনুদান হিসেবে প্রদান করেন।
এদিকে অনুদানের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে উত্তর প্রদেশ সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করছে।
জানা গেছে, ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন এ ঘটনায় প্রথম মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা মন্দিরের অনুদান গণনা ও হিসাব সংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, ট্রাস্টের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির পদত্যাগের খবরও সামনে এসেছে। এর মধ্যে ট্রাস্টি অনিল মিশ্র পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করে এমন কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে তার সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।