
ইরানের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে তেহরান এটিকে চলমান শান্তি সমঝোতার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ইরানের ৮০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। অভিযানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল।
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। যদিও আলোচকরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে তার মতে এ প্রক্রিয়ায় ফল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার পরই এ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো তাদের ঘোষিত নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছিল।
মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি জানায়, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও দুই দেশের সমঝোতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধাও প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বর্তমান সংকটের পেছনে রয়েছে তিন সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের শান্তি সমঝোতা। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ বাণিজ্যিক নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিনিময়ে ইরানের তেল রপ্তানিতে সীমিত ছাড় দেওয়ার কথা ছিল। তবে উভয় পক্ষই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ চললেও উভয় পক্ষই এখনো কূটনৈতিক দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা