
ইরানের ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি বলেছে, ইরানের জ্বালানি রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য থেকেই তেল ও গ্যাস রফতানি ব্যাহত হতে পারে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, “এই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রফতানি হবে হয় সবার জন্য, নয়তো কারও জন্যই নয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকলে তারা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এরই মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উভয় দেশই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে অবস্থান জোরদার করছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় সেখানে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানান।
তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে জাহাজ থেকে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলেও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ বহাল রাখা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যেকোনো সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।