
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানে আরও তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এর ফলে গত ৫ জুলাই শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত চরমপন্থির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ জনে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর এবং পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। বেলুচিস্তানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় চরমপন্থিদের আস্তানাকে লক্ষ্য করে স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। এতে তাদের একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযান শেষে বিভিন্ন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বয়ংক্রিয় সাবমেশিনগান, রকেট লঞ্চার, আধুনিক মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, নিহতরা ভারতের মদদপুষ্ট খাওয়ারিজ গোষ্ঠীর সদস্য। যৌথ কমান্ড জানিয়েছে, বেলুচিস্তান থেকে সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চলতি মাসের শুরুতে বেলুচিস্তানে পৃথক তিনটি সন্ত্রাসী হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। তিনি জানান, মাঙ্গি চেকপোস্টে সন্ত্রাসীদের বড় ধরনের একটি হামলা পুলিশ সদস্যরা প্রতিহত করেন এবং প্রাথমিক প্রতিরোধেই ১৫ জন হামলাকারীকে দমন করতে সক্ষম হন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং সীমান্ত সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।