
পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রাজপথে নেমে আটক হওয়ার পর এক মারাত্মক ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেছেন, পুলিশ যখন তাঁকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন এক পুলিশ সদস্য তাঁর কানে কানে ফিসফিস করে বলেছিলেন—‘এই (মোদি) সরকারের পতন ঘটিয়ে দাও।’
বুধবার (২২ জুলাই) সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের আটক হওয়ার নাটকীয় অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি তোলেন কংগ্রেসের শীর্ষ এই নেতা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন অভিমুখে বিক্ষোভ পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন রাহুল। পদযাত্রা থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে একটি বাসে তুলে নিয়ে যায়।
আটক হওয়ার পরদিন ঘটনার রেশ টেনে রাহুল গান্ধী জানান, তাঁকে বাসে তোলার মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কানে ওই মোদি সরকারবিরোধী মন্তব্যটি করেছিলেন।
শিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগ দাবি জানান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন:
‘শিক্ষার্থীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাইছেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাকে এই মুহূর্তে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। তিনি এই পুরো ব্যবস্থাকে চালানোর জন্য একজন অক্ষম ব্যক্তি।’
উল্লেখ্য, ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের মর্যাদাপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন দেশটির শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। তারা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CGP)-র ব্যানারে একত্রিত হয়ে রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও শুরু থেকেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ দাবি করে আসছেন।
বিগত এক দশকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে বিগত ১২ বছরে অন্তত ১৫২ বার বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে; অথচ সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে বিরোধীদলীয় এই নেতা মন্তব্য করেন:
‘গত এক যুগে ১৫২ বার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। যদি আপনি হিসেব করেন তাহলে প্রতিমাসে একবার করে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও পরিবার এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত। তারা তাদের পুরো জীবনের কষ্টার্জিত সাশ্রয় এসব পরীক্ষায় খরচ করেছেন। তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল ক্ষোভের সাথে যোগ করেন:
‘তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো গত ১০ বছরে প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে কাউকে দায়ী করা হয়নি। এটি শূন্য।’
(সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে)