
সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের বিরোধী নেতারা। তাদের দাবি, এই চুক্তি ভবিষ্যতে অঞ্চলজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) ঘোষিত ওই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহায়তায় সৌদি আরবে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি দেশটিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগও দেওয়া হবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল বেসামরিক খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সামরিক উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে বিরোধী নেতারা প্রকাশ্যে চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন।
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, ‘ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে সৌদির সঙ্গে এমন পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে নেওয়া একটি গুরুতর কৌশলগত ব্যর্থতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান।
তার ভাষ্য, ‘সৌদির বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।’
তিনি আরও দাবি করেন, এই চুক্তির বিরোধিতায় ইসরাইলের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া উচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস যাতে এটি অনুমোদন না দেয়, সে লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।