
প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আরও বড় পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ কারণে গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী সপ্তাহে সংসদে এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের চেষ্টা করবে সরকার।
এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন মোদি। বৃহস্পতিবারের ভিডিও বার্তা ছিল এ বিষয়ে তার দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল দাবি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। তাদের প্রধান দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনে। উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ভিনীত যোশীকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নরেশ কুমার গাঙ্গোয়ার। পাশাপাশি টি. কে. অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক হতে পারে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, বেকারত্ব নিরসন এবং সিবিএসইর অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতির কথিত অনিয়ম তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
গত ৬ জুন শুরু হওয়া এ আন্দোলন ২৮ জুন নতুন গতি পায়, যখন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে যোগ দেন। তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসের পর তিনি ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছেন।