
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান রাজপথের লড়াই আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে পদ থেকে সরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত আন্দোলন থামার কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট করেন, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও সিজেপির নেতারা কোনো মন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে বৈঠকে বসবেন না। তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, আলোচনা করতে হলে সরকারকে যন্তর-মন্তরে আসতে হবে কিংবা কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্ধারণ করতে হবে।
সাক্ষাৎকারে অতীত অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, ‘সরকার আগেও আমাদের আলোচনার জন্য ডেকেছিল। কিন্তু আমাদের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মাত্র ১০ মিনিট কথা বলা হয়েছিল। আমরা আর সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চাই না।’
অভিজিৎ দিপকের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘সরকার যদি সত্যিই আলোচনা করতে চায়, তাহলে মন্ত্রীদের বাসভবনে নয়; যন্তর-মন্তর অথবা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বৈঠক করতে হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ওড়িশায় প্রশ্নফাঁসবিরোধী একটি পুরোনো ছবির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক সুরে দিপকে বলেন, ‘তাহলে তার যন্তর-মন্তরে এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া উচিত। আমরা তাকে স্বাগত জানাব। এমনকি তার পদত্যাগপত্রও আমরা প্রস্তুত করে রাখব। তাকে শুধু সেখানে স্বাক্ষর করতে হবে।’
অভিযোগের তীর সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দিকে ছুঁড়ে সিজেপি প্রধান বলেন, ‘এটি একটি অস্পষ্ট ঘোষণা। প্রকৃত দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি। আমাদের দাবি খুবই পরিষ্কার—শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর দায় শিক্ষামন্ত্রীর ওপর চাপিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে যন্তর-মন্তরে আর কোনো রক্ত ঝরানো উচিত নয়। ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দায় তার ওপর বর্তায়।’
আন্দোলন কেবল আর রাজধানী দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নেই জানিয়ে দিপকে দাবি করেন, মুম্বাই, নাসিক, মিজোরাম, জয়পুর, মধ্যপ্রদেশ ও বেঙ্গালুরুসহ ভারতের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
লাখো তরুণের দাবির মুখে সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি বলেন, ‘লাখো মানুষ যখন একজন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে, তখন একজন মন্ত্রীকে অপসারণ করা কেন এত বড় সমস্যা, তা আমি বুঝতে পারছি না। লাখো শিক্ষার্থীর চেয়ে কোনো শিক্ষামন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না।’
সরকারকে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘এর পর যে-ই শিক্ষামন্ত্রী হবেন, তিনি জানবেন যে দায়িত্বে অবহেলা করলে, প্রশ্নফাঁস হলে বা কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করলে তার পদও নিরাপদ থাকবে না।’
এদিকে, বৃহস্পতিবারও যন্তর-মন্তরে দেখা গেছে হাজারো ক্ষুব্ধ মানুষের জনস্রোত, যাদের বড় একটি অংশই তরুণ শিক্ষার্থী। নিটের প্রশ্নফাঁস কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও এখন তা বেকারত্ব দূরীকরণ, সিবিএসইর অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের প্রতিবাদ এবং সরকারি নিয়োগব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের এক বিস্তৃত আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন যন্তর-মন্তরে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৮ জুন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশনে যোগ দিলে এই প্রতিবাদ গোটা ভারতের মূলধারার চর্চায় চলে আসে।