
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে যাবতীয় তদন্তকাজ সম্পন্ন করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিতের স্পষ্ট অঙ্গীকার করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে শহীদ, আহত এবং পঙ্গুত্ববরণকারীদের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। আমরা আশা করছি যে, আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাই সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার তদন্ত শেষ করবো। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
তদন্তের গতি ও অগ্রগতি সম্পর্কে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত পরিচালনা করছি। তদন্ত কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করছেন।’
বিচারের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা বাইরের কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, একই দিনে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ঘটে যাওয়া গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে একটি স্মারকলিপি তুলে দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধিদল।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে প্রতিনিধিদলটির কাছে মামলার সার্বিক অগ্রগতি ব্যাখ্যা করেন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে হওয়া সমস্ত অপকর্মের সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার পূর্ণ আশ্বাস প্রদান করেন।