
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত সফর মাঝপথে থামিয়ে তড়িঘড়ি দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সংবিধানের বিদ্যমান বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির ইস্তফাপত্র কার্যকর হতে তা স্পিকারের নিকট সরাসরি লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত আকারে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তা ছাড়া, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ খালি হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির কার্যভার সামলান। আর এই উদ্ভূত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই দ্রুততম সময়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে হয় স্পিকারকে।
এর আগে, গত ১৯ জুলাই উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে উড়াল দিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মূল সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তাঁর দেশে ফেরার কথা থাকলেও সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের দুই দিন পূর্বেই তিনি দেশে ফিরলেন।
অন্যদিকে, শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রাম ও নিবিড় চিকিৎসায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাঁর দু'টি পৃথক শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর সিটি স্ক্যান ও এমআরআই প্রতিবেদনে হৃদরোগের জটিলতার বাইরেও কিছু স্নায়বিক (নিউরোলজিক্যাল) সমস্যা ধরা পড়েছে বলে বঙ্গভবনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আমার দেশকে নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও প্রকাশ করে যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগে ভুগছিলেন। পূর্বে সিঙ্গাপুরে তাঁর বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হলেও পরবর্তী সময়ে শরীরে তীব্র দুর্বলতা এবং কোমর ও পিঠে ব্যথা শুরু হয়। যে কারণে তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়েও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলেন।
ইদানীং পুনরায় অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন। তবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে নিয়োজিত বঙ্গভবনের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন রাষ্ট্রপতি। সকালে তিনি দাপ্তরিক কক্ষে যান এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চারটি ফাইলে স্বাক্ষর প্রদান করেন। পাশাপাশি বঙ্গভবনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও সারেন তিনি।