
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও যুদ্ধনীতি নিয়ে রাজপথে মুখ খোলার খেসারত দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে। ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে সম্প্রতি মেয়র মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিনোদন ম্যাগাজিন 'রোলিং স্টোন'-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই তথ্য উন্মোচন করে মামদানি জানান, জনসম্মুখে গাজা যুদ্ধ নিয়ে কথা বলার পর থেকেই তাঁরা এ ধরনের মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে এই হুমকির পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর হুমকির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা কঠিন। তবে যখন আপনি সবার অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকেন, তখন তার পরিণতি ভোগ করতেও প্রস্তুত থাকতে হবে।’
মামদানি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি তাঁর জন্য একেবারেই নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়; নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার প্রতিনিধি বা অ্যাসেম্বলি মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি এমন বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে ইসরায়েলকে মার্কিন সরকারের দেওয়া সামরিক অর্থায়নের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা এবং নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রতিবাদ জানানোর কারণেই সেই সময় তাঁকে অব্যাহত হুমকির মুখে পড়তে হয়।
এই হুমকি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান পাওয়ার পর হঠাৎ শুরু হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, নিউ ইয়র্কের মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব থেকেই এসব হুমকি আসছিল এবং দায়িত্বভার গ্রহণের পরেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। শুধু তিনি একা নন, গাজা ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান ধরে রাখার মাশুল হিসেবে তাঁর স্ত্রীকেও প্রতিনিয়ত কটূক্তি ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-কে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক জারীকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষটি সামনে এনে মামদানি জানান, দি হেগের ট্রাইব্যুনালে নেতানিয়াহুর আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত।
তবে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মামদানি পরবর্তীতে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল বা কার্যকর করার কোনো নিজস্ব স্বাধীন আইনি একতিয়ার নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নেই। আইসিসির এমন কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ আইনি এখতিয়ার ও দায়ভার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরই বর্তায় বলে জানান তিনি।