
বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ক্যাম্পে দুই ব্যাটালিয়নের সদস্যদের মধ্যকার তীব্র বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে এক জওয়ানের অতর্কিত গুলিবর্ষণে বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এই প্রাণঘাতী ঘটনায় একই ব্যাটালিয়নের আরও এক জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ জেলার বৈষ্ণবনগর বিএসএফ ক্যাম্পে। ওই দিন ক্যাম্পের ১১৯ নম্বর এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের একাধিক সদস্যের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও গুলিবর্ষণে রূপ নেয়।
রাজশাহী সীমান্তের অপর পাশে অবস্থিত মালদাহের বৈষ্ণবনগরে বিএসএফের ১১৯ ও ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের মূল সদর দফতর অবস্থিত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কোনো বিষয় নিয়ে দুই ব্যাটালিয়নের সদস্যদের মাঝে বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা শিবম মিশ্র নিজের অস্ত্র দিয়ে সহকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। তাঁর চালানো গুলিতেই ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের দুজন জওয়ান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং অপর একজন মারাত্মক আহত হন।
নিহত দুই বিএসএফ সদস্য হলেন— ৫১ বছর বয়সী অজয় কুমার সিং এবং ৩৭ বছর বয়সী আম্বদর সুরেশ দরগু। অন্যদিকে গুরুতর আহত ৪৪ বছরের বিকাশ ব্রম্মকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি জারি না করলেও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে জওয়ানদের বিশ্রামের সময়ে হঠাৎই তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করেন শিবম। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও সহকর্মীদের উদ্দেশ্য করে গুলি চালানোর পুরোনো অভিযোগ ছিল, যার দরুন বিএসএফের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে সাজাও দেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন আগেই সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছিল, কিন্তু তার মাঝেই আবার এ মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটান তিনি।
তবে ঠিক কী কারণে ওই বিএসএফ সদস্য এ ধরনের হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সার্বিক বিষয়টি কি ব্যক্তিগত কোন্দল, মানসিক চাপ নাকি অন্য কোনো গভীর অসন্তোষ থেকে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবরের পরপরই বৈষ্ণবনগর থানা পুলিশ, বিএসএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক প্রতিনিধি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছায়।
পুরো ঘটনা তদন্তের বিষয় নিশ্চিত করে বিএসএফের মালদাহ সেক্টরের ডিআইজি সুরেন্দ্র কুমার ঝা জানান, বাহিনীর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত দল গঠন করে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিবম মিশ্রকে আটক করা হয়েছে। একই সাথে বৈষ্ণবনগর থানা পুলিশও ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে নেমেছে।