
শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম ও নিট পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক বিজয় হিসেবে দেখছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। আম আদমি পার্টি (আপ) ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই এই পদত্যাগ।
আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারী তরুণদের অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ সমাজ ও জেন জিকে আন্তরিক অভিনন্দন। আপনাদের নিরলস আন্দোলনের ফলেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এত বড় আন্দোলনের পর অবশেষে জনগণের কণ্ঠস্বরের সামনে সরকারের অহংকার ভেঙে পড়েছে। এটি ভারতীয় গণতন্ত্রের এক বড় বিজয়।”
কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এই পদত্যাগকে দেশের লাখো তরুণের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভারতের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত কণ্ঠ অবশেষে ক্ষমতাসীনদের কাছে পৌঁছেছে। এটি রাজপথে নেমে আন্দোলন করা কোটি কোটি যুবকের জয়, সত্যের জয় এবং নরেন্দ্র মোদীর একগুঁয়েমির পরাজয়। দুর্নীতির কারণে যেসব পরিবার তাদের সন্তানদের হারিয়েছে, এটি তাদেরও জয়। একই সঙ্গে সংসদ থেকে রাজপথ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শিবিরের আন্দোলনেরও সাফল্য।”
খাড়গে আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিত দেশের তরুণদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। পাশাপাশি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ভূপিন্দর সিং হুদা বলেন, এই সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। তার মতে, আগে পদত্যাগ করা হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এত বড় ক্ষতি এড়ানো যেত। তিনি বলেন, পরীক্ষাব্যবস্থার ওপর তরুণদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এখন একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
অন্যদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এক বিবৃতিতে জানায়, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।